| প্রতীকী ছবি |
সম্প্রতি
বাংলাদেশের মিডিয়া নিয়ে খুব আলাপ উঠেছে। মিডিয়াতে নাকি এখনও ফ্যাসিস্টের দালাল ও
দোসরেরা বহাল তবিয়তে।
এদিকে
তথাকথিত অভ্যুত্থানের প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেছে। মিডিয়া দখল, চেয়ার দখল, চাঁদাবাজি
সবই হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি সবাই মিলেই এসব করেছে। এখনও চাকরিচ্যুতি চলছেই।
সারাদেশে মামলা যে কতজন সাংবাদিকের নামে হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা বের করা খুব কঠিন।
অথচ এখনও নাকি শেখ হাসিনার দালালেরা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। কী আজব কথা! এহেন
প্রেক্ষিতেই আজকের লেখায় মিডিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরবো। মতামত দিবেন ও
বিশ্লেষণ করবেন সম্মানিত পাঠকেরা।
এবার
আমরা একটু টেলিভিশন চ্যানেলের চিত্রটা খতিয়ে দেখবো এবং পাঠককেও দেখাবোঃ
১। দেশের একমাত্র সরকারী টিভি বিটিভি। এর ডিজি পদে
নিয়োগ দেয়া হয়েছে জামায়াতপন্থী সাংবাদিক মাহবুবুল আলমকে। তিনি আগে দিগন্ত টিভির
কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি দায়িত্ব নিয়েই সারাদেশের সকল জেলা প্রতিনিধির নিয়োগ বাতিল
করেছেন। হেড অফিসের কয়েকজন সাংবাদিক ও সিনিয়র কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছেন। জিএম
পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির সাংবাদিক নুরুল আজম পবণ। আর রাতের রাজনৈতিক টকশোর
উপস্থাপক, জামাতি দিগন্ত টিভি এবং সংগ্রামের সাংবাদিক সরদার ফরিদ।
২। দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী মিডিয়া মালিক
বসুন্ধরা গ্রুপের রয়েছে ৬টি মিডিয়া হাউজ। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে এগুলো দেখভাল
করেন একজন মিডিয়া ডিরেক্টর, তথা বসুন্ধরা গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা
ডিএমডি। ৫ আগস্টের পরে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের এই
ডিএমডি পদটির দখল নিয়েছেন সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী। কাদের গণি চৌধুরী যতটা
সাংবাদিক এরচেয়েও বেশি জিয়ার সৈনিক। তিনি যতটা সাংবাদিক নেতা তারচেয়েও বেশি বিএনপি
নেতা। তিনি নিজেই নিজের বেতন ও সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করেছেন। তার অধীনস্থ অন্যদের
ক্ষেত্রেও তিনি তাই করেছেন। মালিক বা প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতির বিষয় নয়, নিজেরাই
নিজেদের বেতন-ভাতা সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করার এক বিরল ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশের
মিডিয়াপাড়ায়।
৩। কাদের গনি চৌধুরী মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়েই নিউজ ২৪
এর বার্তা প্রধান রাহুল রাহাকে চাকরিচ্যুত করেছেন এবং শরিফুল ইসলাম শরিফকে বার্তা
প্রধানের পদে নিয়োগ দিয়েছেন। নির্বাহী সম্পাদকের পদে নিয়োগ দিয়েছেন ফরহাদুল ইসলাম
ফরিদকে। নিউজ ২৪ টিভি চ্যানেল থেকে বিশেষ প্রতিবেদক জয়দেব চন্দ্র দাসকে চাকরিচ্যুত
করেছেন।
৪। একাত্তর টিভির লাইসেন্স মোজাম্মেল হক বাবুর
নামে। তিনি কিছু অংশ বিক্রি করেছেন বিনিয়োগকারী মেঘনা গ্রুপের কাছে। সেই একাত্তর
টিভি থেকে মোজাম্মেল হক বাবুকেও সিইও পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশেষ প্রতিবেদক শফিক
আহমেদ নিজেই স্বঘোষিত সিইও হয়ে বসেছেন। ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, নূর সাফা
জুলহাজ, এ জেড এম আজাদ, মনির হোসেন লিটন, বায়েজিদ মিল্কী, মাইনুদ্দিন দুলাল,
ফারহানা রহমান, তুহিনুর সুলতানা, ঝুমুর বারী, রিয়াজুল বাশার, ফারজানা করিম,
সৌমিত্র মজুমদার, ফালগুনি রশিদ, মিশু মিলন সহ সাংবাদিক, প্রযোজক, সহকারী প্রযোজক,
ক্যামেরাম্যান, প্রোমো- এরকম বিভিন্ন পদের প্রায় ৪০জনকে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে
চাকরিচ্যুত করেছেন শফিক। এছাড়াও সারাদেশের জেলা/উপজেলা ও বিশেষ প্রতিনিধিদের
অধিকাংশকে বাদ দিয়েছেন, চাকরিচ্যুত করেছেন।
৫। ডিবিসি নিউজ টিভিতে সম্পাদক পদে নিয়োগ পেয়েছেন
লোটন একরাম। যার অতীতে টিভিতে কাজের অভিজ্ঞতাই নেই। কিন্তু এখন তিনি সর্বেসর্বা।
সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু ও প্রণব সাহা, প্রধান বার্তা সম্পাদক নঈম তারিক,
মাসুদ ইবনে কার্জন, ঝুমি রহমান, কাওসারা চৌধুরী কুমু, আব্দুল্লাহ আল মাসুম,
মাছুদুর রহমান, নাদিম মাহমুদ, তাবাসসুম সারওয়ার চৈতি, ফরহাদ ইবনে মালেক, বিকাশ
বিশ্বাস সহ প্রায় ২০জনকে চাকরিচ্যুত করেছে্ন লোটন একরাম। এছাড়াও সারাদেশের
জেলা/উপজেলা ও বিশেষ প্রতিনিধিদের অধিকাংশকে বাদ দিয়েছেন, চাকরিচ্যুত করেছেন।
৬। একুশে টিভির বার্তা প্রধান হয়েছেন হারুনুর রশীদ
স্বপন। চাকরিচ্যুত হয়েছেন বার্তা প্রধান রাশেদ চৌধুরী। একুশে টিভিতে সারাদেশের
প্রতিনিধি সহ পুরো সেট পরিবর্তন করা হয়েছে। অখিল পোদ্দার, দেবাশিষ রায়, ফারজানা
শোভা, আজহারুল ইসলাম অপুসহ অনেকেই চাকরিচ্যুত হয়েছেন।
৭। এটিএন নিউজে প্রভাষ আমিনকে সরিয়ে বার্তা
প্রধানের পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শহীদুল আজমকে। প্রধান বার্তা সম্পাদকের পদে নিয়োগ
পেয়েছেন মো. মোশাররফ হোসেন।
৮। এটিএন বাংলায় জ ই মামুনকে সরিয়ে নির্বাহী
সম্পাদক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মতিউর রহমানকে।
৯। আরটিভিতে বার্তা প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন
ইলিয়াস হোসেন। ইলিয়াস হোসেন ২০০১-০৬ মেয়াদে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার
আসামী উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর এপিএস ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা একেএম
ওয়াহিদুজ্জামন অ্যাপোলো বিনা পুঁজিতে এবং দখলদার সূত্রে আরটিভির শেয়ার হোল্ডার হয়ে
পরিচালক পদে সমাসীন হয়েছেন। এদিকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন বার্তা প্রধান আসাদুল্লাহ
মারুফ, সিনিয়র সাংবাদিক শরিফ উদ্দিন লেমন, রুহুল আমিন তুহিন প্রমুখ।
১০। বৈশাখি টিভিতে অশোক চৌধুরীকে সরিয়ে জিয়াউল কবীর
সুমনকে বার্তা প্রধান করা হয়েছে। প্রধান বার্তা সম্পাদক পদে নিয়োগ পেয়েছেন তৌহিদুল
ইসলাম শান্ত। চাকরিচ্যুত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম, সঞ্চিতা শর্মা, জয় প্রকাশ প্রমুখ।
১১। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে মামুন আব্দুল্লাহকে সরিয়ে
বার্তা প্রধান করা হয়েছে মোস্তফা আকমলকে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন আশিষ সৈকত, অনিমেষ কর,
বিপ্লব রহমান সহ অনেকেই।
১২। এশিয়ান টিভিতে বার্তা প্রধান বেলাল হোসেনকে
সরিয়ে সিরাজুল ইসলামকে বসানো হয়েছে। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে হালিমা আক্তার লাবণ্যকে।
১৩। দেশ টিভির বার্তা প্রধান পদে বসেছেন মোঃ
মহিউদ্দিন। চাকরিচ্যুত হয়েছেন শামীমা আখতার, জয় কুমার যাদব প্রমুখ।
১৪। সময় টিভির এমডি জোবায়ের আহমেদকে সরিয়ে এমডি
হয়েছেন শম্পা রহমান। সদ্যপ্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সনজীদা খাতুনের জামাতা
নিয়াজ মোরশেদ হেড অফ এডিটরিয়াল পদে বসে সময় টিভি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন।
চাকরিচ্যুত হয়েছেন মুজতবা দানিশ, খান মুহাম্মদ রুমেল, লোপা আহমেদ, আরিফুল সাজ্জাদ,
দেবাশীষ কুমার রায়, ওমর ফারুক, বুলবুল রেজা, কামাল হোসেন শাহরিয়ার প্রমুখ।
১৫। গাজী টিভির বার্তা প্রধানের পদে বসেছেন গাওসুল
আযম বিপু।
১৬। মোহনা টিভির হেড অব এডিটোরিয়াল পদে বসেছেন শাহীন
রাজা।
১৭। বাংলা টিভি থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন সম্পাদক
নজরুল কবীর।
১৮। নাগরিক টিভি থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন প্রধান
বার্তা সম্পাদক দ্বীপ আজাদ, জয়ন্ত কর্মকার, তুহিন খলিফা, সুরাইয়া সামন্তা, পিন্টু
হাজং সহ প্রায় ৩৯জন।
১৯। সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হয়েছেন এখন টিভির নিউজরুম
এডিটর ও উপস্থাপিকা জেনিসিয়া বর্ণা সহ আরেকজন মিডিয়া কর্মী।
২০। গ্রীন টিভি বন্ধ করে দিয়েছে ইউনূস সরকার।
২১। অক্ষত আছে বাংলাভিশন, এনটিভি, এখন টিভি। এদের
গায়ে একটি ফুলের টোকাও লাগেনি। গত ১৫ বছরও তারা এভাবেই ছিলেন।
এবার
আমরা দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের চিত্রটা খতিয়ে দেখবো এবং পাঠকদেরকেও
কিছুটা দেখাবোঃ
১। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট
মিডিয়া গ্রুপের ডিএমডি পদ দখল করেই সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী দৈনিক কালের কণ্ঠের
সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনকে সরিয়ে কবি হাসান হাফিজকে সম্পাদক পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
চাকরিচ্যুত হয়েছেন নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, সিনিয়র সাংবাদিক সজীব ঘোষ প্রমুখ।
২। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে সম্পাদক নঈম
নিজামকে আগেই বিদায় দিয়ে আবু তাহেরকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পদে নিয়োগ দিয়েছিল
বসুন্ধরার মালিকপক্ষ।
৩। দৈনিক ইত্তেফাকে নির্বাহী সম্পাদক পদে বসেছেন
সালেহ উদ্দিন। চাকরিচ্যুত হয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি শ্যামল সরকার।
৪। দৈনিক যায়যায়দিনের নির্বাহী সম্পাদক পদে বসেছেন
খুরশীদ আলম। চাকরিচ্যুত হয়েছেন নির্বাহী সম্পাদক অরুণ কুমার দে।
৫। দৈনিক ভোরের আকাশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পদে
বসেছেন ইলিয়াস উদ্দিন খান। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সম্পাদক মনোরঞ্জন ঘোষালকে।
৬। যমুনা গ্রুপের পত্রিকা দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক
সাইফুল আলমকে বিদায় দিয়ে কথিতযশা কবি আবদুল হাই শিকদারকে নিয়োগ দিয়েছে।
৭। রংধনু গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক প্রতিদিনের
বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিকে সরিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মোরছালীন বাবলাকে
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
৮। আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক সময়ের
আলোর সম্পাদক কমলেশ রায়কে সরিয়ে সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিমকে সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে।
৯। দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শামীম সিদ্দিকীকে চাকরিচ্যুত করেছে।
১০। দৈনিক জনকণ্ঠে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে
যোগ দিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত মেজর শেখ আফিজুর রহমান। তিনি ইতিপূর্বে দৈনিক বাংলায়
কর্মরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু গবেষক হিসেবে পরিচিত এই সেনা অফিসার চাকরিজীবনে ডিজিএফআই
এর মিডিয়া বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর হাত ধরেই দৈনিক জনকণ্ঠ এখন ১৮০ ডিগ্রি
উল্টে এক ঐতিহাসিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে!
১১। রূপায়ন গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক দেশ
রূপান্তরের সম্পাদক মোস্তফা মামুনকে সরিয়ে কামাল উদ্দিন সবুজকে সম্পাদক পদে নিয়োগ
দেয়া হয়েছে।
১২। সম্প্রতি হা-মীম গ্রুপের পত্রিকা দৈনিক সমকালের
সম্পাদক পদে নিয়োগ পেয়েছেন শাহেদ মুহাম্মদ আলী। বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
অ্যানীর তদবিরে তারেক রহমানের সুপারিশে এ কে আজাদ তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। ইতিপূর্বে
সম্পাদক আলমগীর হোসেন চাকরিচ্যুত হয়েছেন এবং শাহেদ মুহাম্মদ আলীকে নিয়োগের
প্রেক্ষিতে চাকরি ছাড়েন প্রধান বার্তা সম্পাদক খাইরুল বাশার শামীম। বছর দেড়েক আগে
দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক পদে নিয়োগ পেয়ে শাহেদ মুহাম্মদ আলী প্রথমেই চাকরিচ্যুত
করেছিলেন এই খাইরুল বাশার শামীমকে। এবার তাই শাহেদের যোগদানের আগেই চাকরি ছেড়ে
ইজ্জত রক্ষা করলেন শামীম।
১৩। দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক কারাগারে। পত্রিকাটি
দখলের মুখে মালিকপক্ষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। গতকাল (২৮ মার্চ) কর্তৃপক্ষ
বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে আবার যাত্রা শুরু করবে প্রায় ৩৫ বছরের পুরানো এই পত্রিকাটি।
১৪। সর্বশেষ দৈনিক কালবেলার সিংহভাগ মালিকানা কিনে
নিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন অপু। এখন তিনি
পত্রিকাটির প্রকাশক। কালবেলা থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন রীতা ভৌমিক।
১৫। অক্ষত আছে প্রথম আলো, বণিক বার্তা, ইনকিলাব,
ডেইলি স্টার, নিউ এইজ, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ফিনান্সিয়াল
এক্সপ্রেস সহ আরও কিছু বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা। এদের গায়ে একটি ফুলের টোকাও
লাগেনি। শেখ হাসিনার আমলে দুয়েকটি পত্রিকার বিজ্ঞাপন কমিয়ে দিলেও তারা তেমন কোন
সংকট মোকাবেলা করেননি।
এবার
আমরা অনলাইন নিউজ পোর্টালের চিত্রটা খতিয়ে দেখবো এবং পাঠককেও কিছুটা দেখাবোঃ
১। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট
মিডিয়া গ্রুপের ডিএমডি পদ দখল করেই সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী বাংলানিউজ২৪ডটকম-এর
সম্পাদক জুয়েল মাজহারকে বিতাড়িত করেন এবং সম্পাদক পদে নিয়োগ দেন লুৎফর রহমান
হিমেলকে।
২। সারাবাংলা ডট নেটের হেড অব নিউজ হয়েছেন গোলাম
সামদানী। চাকরিচ্যুত হয়েছেন প্রধান সম্পাদক রফিকুল্লাহ রোমেল, প্রধান বার্তা
সম্পাদক রহমান মুস্তাফিজ, আজমল হক হেলাল, সৈকত ভৌমিক, নৃপেন্দ্রনাথ রায়, সন্দীপন
বসু প্রমুখ।
৩। এনটিভি অনলাইন থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন ফখরুল
শাহীন।
বাংলাদেশে
অনলাইন নিউজ পোর্টালের নাম ও সংখ্যা বের করা প্রায় অসম্ভব। কাজেই এদের কে অক্ষত ও
কে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তা জানা সম্ভব হয়নি।
শেষকথাঃ
৫
আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৩১৮ জন সাংবাদিকের নামে হত্যাসহ
বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে। প্রায় ২৮ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে কারাগারে
নিক্ষেপ করা হয়েছে। প্রায় ৯২ জন সাংবাদিকের জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সারাদেশের বিভিন্ন
প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ কেড়ে নেয়া হয়েছে। ৪৭জন সাংবাদিককে শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যে
ব্যাংক হিসাব জব্দ সহ নানারকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে।
ঢাকার
হেড অফিস থেকে আরও কতজন চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তা জানা প্রায় অসম্ভব। আর সারাদেশে
সহস্রাধিক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কেউ কেউ দেশ ছাড়তে বাধ্য
হয়েছেন। চার দফায় ১৬৮ সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে সরকার।
সবচেয়ে
মজার বিষয় হলো- যারা বিভিন্ন মিডিয়ায় শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন, সকলেই নিজের
ইচ্ছেমতো বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করে নিয়েছেন। আর এসবই ঘটেছে বিএনপি ও
জামায়াতে ইসলামীর নির্দেশে-সুপারিশে ও ঘটকালীতে।
বলাবাহুল্য,
নতুন কর্তাদের সকলেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ খেদমতগার। সম্প্রতি
সরকারের পক্ষে প্রেস সচিব ও এনসিপি দলের নেতারাও মিডিয়া দখল, নিজেদের লোক বসানো
ইত্যাদিতে যুক্ত হয়েছেন। এরপরেও দেশের মিডিয়াগুলো নাকি শেখ হাসিনার দালালে ভর্তি!
নজিরবিহীনভাবে
শুধু সম্পাদক/সাংবাদিকের পদ দখলই নয়, ড. ইউনূসের জামানায় প্রেস ক্লাব, ডিআরইউয়ের
পাশাপাশি দখল হয়ে গেছে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো। এর সভাপতির পদ ভাগাভাগি
করে নিয়েছেন বহুল আলোচিত ব্যাক্তিত্ব এনটিভির মালিক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক
আলী ফালু ও বাংলা ভিশনের মালিক আব্দুল হক। আব্দুল হক এখন বিএনপিতে তারেক রহমান
পন্থী হিসেবে স্বীকৃত। আর ফালু সাহেবের পরিচয় নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।
এরপরেও
নাকি মিডিয়ায় আওয়ামী দালালে জয়জয়কার!







Leave a Reply